"পলাতক"

"পলাতক"
রাত্রি দ্বিপ্রহর!
ত্রয়োদশীর চাঁদ যেন নীরব রাতের সহাবস্থানের জন্যই উন্মুখ;
নৃশংস প্রান্তরে তার স্নিগ্ধ কিরণেও গাঢ় কোমলতা;
মার্বেলের মেঝেতে ছোপ ছোপ রক্ত যেন আরো বেশি স্পষ্ট।
খুনে হায়েনারা ছড়িয়ে পড়েছে চারিদিকে;
খুনের নেশায় যেন খুঁজে ফিরছে সর্বত্র।
পাতার খসখস্ শব্দে চমকে উঠি আমি-
দূর থেকে ভেসে আসে বুড়ো শেয়ালের বিলাপ!
জ্বরে ভোগা রোগীর মত বিকার নিয়ে আবার আমি পা চালাই,
ক্যাথোড্রেলের ঘন্টা ধ্বনি ছাপিয়ে যায় আমার হৃদপিন্ডের উত্থান-পতন।
হাতের রাইফেলটা খুব বেশি ভারী মনেহয়!
সময়ের স্রোত রক্তে লাভার উদগীরণ ঘটায়;
দিশেহারা ভাবনারা ছুটে চলে অনিবার; ভাবি-
কিসের জন্যে আজ লড়ছি!
কোন স্বপ্নকে সাকার করতে আজ সহযাত্রীরা নাম লিখিয়েছে মৃতের ভীড়ে!
ভাবনারা তোলপাড় করেই চলে;
দূরের গ্রামের কোলাহল আর গুলির শব্দে রাতের বাতাস ভারী হয়;
তাড়া খাওয়া বন্য পশুর মত আমি আবার ছুটে চলি।
গাঢ় রাত ফিনিক ফোঁটা জোৎস্না জ্বেলে রাখে;
নদীর বাতাসে তীব্র লেবু ফুলের ঘ্রান খুব করে মনে করায় আমার ফেলে আসা শৈশবের কথা; আমায় আবারো স্বপ্ন দেখায় নিশ্চিন্ত এক জীবনের।
রাইফেলটা খুব জোর শক্ত হাতে ধরে আমি এগিয়ে যাই সামনে;
দূরের অন্ধকারে।।
-কৃষ্ণেন্দু দাস/ অক্টোবর,২০১৭।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

সজ্ঞানে স্মৃতিভ্রংশ