পোস্টগুলি

"নির্দোষ সময়"

 "নির্দোষ সময়" এইতো বেঁচে থাকা; শঠতার আমন্ত্রণে জলজ সরীসৃপ হয়ে নিজেকে টেনে হিচড়ে- লোভীর মত বেঁচে থাকা। এবং ফেলে যাওয়া কিছুটা নিরেট সময়- যেখানে বিবর্তনে ক্ষয়ে যাওয়া অস্তিত্বের মাঝে অহর্নিশি জংধরা কিছু দূর্ভাবনা অনুপ্রবেশ করে, যেখানে নির্দোষ সময়েরা দুঃসময় হয়ে প্রতিক্ষণে দীক্ষিত করে- স্বার্থপরতার ক্রুর মন্ত্রে, যেখানে স্বপ্নগুলো দুঃস্বপ্ন হয়ে ক্রমাগত হানা দিয়ে যায় নীরব রাতে; মনের অতল গহীন কোনে। আর এসব নিয়েই ক্ষণিকের অবচেতনায় ধূসর স্মৃতির আবহে- নিজের খেয়ালে আরো একটু লুকোচুরি, অতঃপর হয়তো সংকীর্ণতার যাত্রাপথ কে শ্লথ করে; সম্ভাব্য কোন গন্তব্যের পানে পূনর্বার পদসঞ্চার। এইতো বেঁচে থাকা! নির্জন অবসাদে এখানেই খুঁজে ফেরা নৈসর্গিক কোনো মিথ্যে আত্মপ্রসাদ। প্রাচীনতার পরম্পরায় অবশেষে আসে নির্দোষ সময়ের প্রলম্বিত পরিনতি; সেটুকু মেনে নিয়ে মহাকালের কোন বিচিত্রতার প্রয়াশে মোহাবিষ্ট হয়ে- সব সংকল্প ছেড়ে সম্মুখ অজানার পথে অতলান্তিক নির্বাসন। এইতো বেঁচে থাকা; এভাবেই বাঁচে সবাই! নির্দোষ সময়ের কুঠুরীতে আশ্রিত হয়ে; বাঞ্ছিত সকল সুখ আর সম্ভাবনার মুখে লাগাম পরিয়ে- এ এক অদ্ভূত রকমের সংশয় নিয়ে বেঁচে থাকা; হয়...

"বিভ্রান্তির ডায়েরী"

 "বিভ্রান্তির ডায়েরী" হয়তো এখানেই শেষ, অথবা এখান থেকে শুরু- আমার শীর্ন আঙ্গুল গুলোতে এখন অস্পষ্ট অথচ তীব্র ব্যাথা, সমস্ত দেহ জুড়ে এক অপার্থিব আড়ষ্টতা। আমার বুকে জ্বালাময় তৃষ্ণা, চোখে নীল আতঙ্ক। স্নায়ুতে টান টান উত্তেজনা নিয়ে আমি আবার তাকাই বাইরে, বাইরে চন্দ্রালোকিত রাত, আঁধারের ছিটেফোঁটা নেই। যে কোন মুহূর্তে ডাক পড়বে আমার, তারপর… আসবাবহীন বদ্ধ কুঠুরী, আমি বসে আছি, আসলে অপেক্ষা করছি। কিসের জন্য অপেক্ষা, মৃত্যুর জন্য? নাকি মুক্তির জন্য…. মৃত্যু মানেই কি সব শেষ? যেখানে কিছু শেষ হয়- সেখান থেকেই আবার নতুন কিছুর শুরু। হয়তো মৃত্যুর পরে আবার শুরু হবে নতুন এক জীবন, হয়তো সেই জীবনের জন্য আমি এখন অপেক্ষা করছি। আমার সারা শরীর আস্তে আস্তে এক গভীর অবসাদে তলিয়ে যাচ্ছে, ছিন্ন হচ্ছে দেহের সাথে মনের সব সংযোগ, একক ভাবে কোন ভাবনা আর মাথায় আসছেনা। মাথার ভেতর থেকে থেকে এক তীক্ষ্ণ যন্ত্রনা প্রতি মুহূর্তে বলে দিচ্ছে- এখনও বেঁচে আছ তুমি…. আর একটু, আর একটু পরেই সব শেষ। আমি শেষটুকু দেখব বলে আতঙ্ক আর আগ্রহে অধীর, আমি আবার তাকাই বাইরে, বাইরে এখনও শীতল এক নীরবতা। কর্কশ গলায় একটি পেঁচা ডেকে উঠল, আমার চোখ নে...

গোধূলীর মৃত্যুকাব্য

"গোধূলীর মৃত্যুকাব্য" দেয়ালের ঘড়িটায় বেলা তিনটে বেজে দশ। তার ঘন্টাধ্বণি থেমে গিয়েছিল বহুক্ষণ আগেই; অথচ সেই রেশ যেন থেমে থেমে ঝড় তুলছে সমস্তটা অবচেতনা জুড়ে! কঙ্কালসার অবয়ব নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা চিলেকোঠায় তিনটে চড়ুই, চটে যাওয়া মেঝের চায়ের দাঁগে- অজস্র পিঁপড়ের দঙ্গল, আর বিছানায় পড়ে থাকা একটি শীর্ণকায় দেহ! মৃত্যু উপত্যকায় দাঁড়িয়ে থাকা অতীতের এক প্রানবন্ত শরীর; একজন মানুষের শরীর! তার আধখোলা চোখে যেন ঠিকরে পড়ছে রাজ্যের বিষ্ময়, নদীর ঢেউয়ের মত বিলম্বিত শ্বাসে- উঠছে নামছে বুক। সে বুকে জমে আছে ফোঁপানো কান্না, আহা; এখন যদি একটি বার সে কাঁদতে পারতো! ঠিক যেভাবে সে প্রথম বার উচ্চস্বরে কেঁদেছিল এ পৃথিবীর আলো দেখে... একটি কুকুর অজানা শঙ্কায় যেন তারঃস্বরে ডেকে গেল উঠোনে দাঁড়িয়ে, তারপর শুধুই নৈশব্দ। তার ক্লান্ত নিঃশ্বাস এখন আরো বেশি বিলম্বিত, প্রায় শেষবারের জন্য সে একটি বার চোখ খুলে কিছু একটা দেখতে চাইলো, তার চোখে তখনও লেগে আছে মৃত্যুর বিষ্ময়! সমস্ত চরাচর আঁধারে ঢেকে একটু পরেই সন্ধ্যা নামবে এই পৃথিবীতে। গোধূলীর অপার্থিব আলোয় শেষ বারের মত আলোকিত হল সারাটা ঘর! -কৃষ্ণেন্দু ...

সজ্ঞানে স্মৃতিভ্রংশ

"স্বজ্ঞানে স্মৃতিভ্রংশ" সেদিন ঠিক কি হয়েছিল; পরিষ্কার মনে নেই আমার। অথচ, বালক বয়সে বাবা'র আঙ্গুল মুঠোয় চেপে মেলার মাঠে যাওয়া, কিংবা লাল ঘোড়ার পিঠ থেকে পড়ে যাওয়ার অনুভূতি এখনও চেতনায় জীবন্ত! আমার সাধ হয়েছিলো- স্টীমারে চড়ে দূর দেশে যাবার, জলের গায়ে প্রপেলারের ঘর্ষন; মাল্লা'দের কথা আর অবাধ্য গাংচিলের চিৎকারে এখনও সচকিত হই। ব্যাস্ এই পর্যন্তই! আর কিছু মনে নেই আমার। অথচ নিত্যদিনের যাপিত জীবনে বেশ সুখেই তো আছি। ছেলেমেয়ে দুটো স্কুলে গেলে ওদের হোমওয়ার্ক, অফিসের পিয়নের সাথে পঁচা রাজনীতি নিয়ে তর্ক, আর ফেরার পথে কাঁচাবাজার হয়ে আসা- কোথাও কোন খামতি নেই। তবুও গভীর ঘুমের মাঝে কেউ যেন টানা সুরে ডেকে যায়; মগজের সুক্ষ্ম অলিন্দে বয়ে চলে তোলপাড়, সারারাত জেগে ভেবেও কুল পাইনা। আবারও ফিরে যাই কৈশোরে- সাইকেল চেপে স্কুলে যাওয়া; নারকেল গাছের কোটরে তক্ষক খুঁজে ফেরা, আর... ফুটবল দলের আগামী ক্যাপ্টেন হবার স্বপ্ন, অতঃপর- সেই ঘোলাজলে স্টীমারের প্রপেলারের শব্দ, হুইসেল, আর গাংচিলের উড়ে যাওয়া। তারপর, শুধুই ধোঁয়াশা। অথচ; সেদিন যে ঠিক কি হয়েছিল- কিছুই আর মনে পড়েনা আমার! ...

না বলা কথা

"না বলা কথা" সেদিন রাস্তার মোড়ে আসতেই হঠাৎ দেখা তোমার সাথে, ঘনীভূত মেঘের উপক্রম দেখে শশব্যস্ত পথচারীর খিপ্রতা নিয়েই যেন থেমে গিয়েছিলো- আমার উদ্ভ্রান্ত নিরেট সময়েরা। "এতদিন কোথায় ছিলে", এই সামান্য কথাটি বলার সুযোগ না দিতেই যেন সহস্র যুগের সময় নিয়ে তখন- চলে গেল একটার পর একটা গাড়ি। সদ্য বৃষ্টিস্নাত বৃক্ষের সজীবতা নিয়ে তুমি দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিলে বুকস্টলের একটু সামনে। তোমার লালচে খয়েরী টিপ, নীল পাথরের সেই নাকফুল, আর তোমার সর্বস্ব নিয়ে তুমি- রাস্তার ঠিক ওপাশে দাঁড়িয়ে। নাহ্! এবারেও আমার শাশ্বত প্রেমিক হয়ে ওঠা হলনা, আমার রিপু করা পাঞ্জাবীর পকেট হাতড়ে- রুমাল টেনে, চশমার কাঁচ মুছে নিয়ে- আমি পা বাড়ালাম সামনে, ঠিক আট বছর আগের মতই গভীর অন্যমনস্ক ভাবে। বলা হলনা সেই বিশেষ কথাটা আজও তোমাকে। তারচেয়ে টিউশনির ছয়শো টাকায় কেনা কেরোসিনের চুলায় দু'মুঠো চাল চড়িয়েই বরং ভাবতে বসব তোমাকে! আমার এই ধূসর, আটপৌরে জীবনে রোমান্টিসিজম্ থাকতে নেই, বয়সের ভারে কুঁকড়ে মনটাও এখন বড় বেশি অথর্ব, অনঢ়। প্রায়ই ভাবি- তোমাকে নিয়ে লেখা সব কবিতা ছিড়ে কুটিকুটি করে ফেলি, ...

"অস্পষ্ট বোধ"

"অস্পষ্ট বোধ" শব্দহীনতার মাঝে আবিষ্ট নিরুদ্দেশ কিছু প্রহর- অস্পষ্ট বোধের কাছে আরোপিত সমস্ত ধূসর স্মৃতির সময়ক্ষেপন। এভাবেই চলমান প্রক্রিয়া হয়ে ক্রমশ গড়িয়ে চলে জীবনের প্রতিটি পরিচ্ছেদ, ক্লেদাক্ত কীটের মত শ্লথ হয়ে যায় জরাগ্রস্ত অনুভূতি। সৃষ্টির আদিম মৈথুনে যেমন রোমাঞ্চিত হয় নেশাতুর প্রকৃতি- ছোঁয়াচে অসুখের মত তেমনি করে পেয়ে বসে ঘোরলাগা ভাবনা। পরজীবী লতা হয়ে জীবনের মধ্যে বেড়ে ওঠে আরো একটি জীবন, সময়ের মাঝে প্রবাহিত হয় আরো কিছু সময়। কল্পনার জঠরে আস্তে সুস্থে জন্ম নেয় নিরাশার ভ্রুণ, সত্ত্বার মাঝে গভীর এক কালশিটে দাঁগ হয়ে ধরা দেয় পুরোনো প্রেম। অতঃপর বোধশক্তিহীন কিছু মহাকালের নীরব বিরতিঃ আবার সময়ের মাঝে বাসা বাঁধে সময়ের ক্ষণ- নতুন বর্ষা এসে ধুয়ে দেয় খেদ, চুন খসে বিবর্ণ হয় স্বার্থপরতার দেয়াল, ভাবনার তরী পাল তুলে মেলাতে চায় হাওয়ায়- দূরের কোন কার্তিকের ফসলী মাঠে।। অবচেতনার আঙিনায় রোপিত হয় স্বপ্নের মহীরুহ। জীবন অদৃশ্য সময়ক্ষেপনে জানায় তার অস্তিত্ব, অস্পষ্ট বোধের মাঝে পুনর্জন্ম হয়ে ফুঁটে ওঠে- স্বপ্ন, মৃত্যু কিংবা ভালোবাসা...... -কৃষ্ণেন্দু দাস, জুলাই ২০১৮ খ্রিঃ

"বিলুপ্তি"

"বিলুপ্তি" বহুদিন পার করে হঠাৎ ইচ্ছে হল ফিরে যাব অতীতের কাছে, বাঁধভাঙা ভালবাসা সবটুকু তুলে নেব একটু একটু করে, এইমনে যত জমা আছে। কপটতা, সংকোচ আর যত অনুভূতি সেইক্ষণে থাকবেনা সাথে, বন্ধন ভুলে গিয়ে দ্রোহের শিকল খুলে, মোক্ষের অভিযানে- আবার নামব আমি পথে। যেই পথে একদিন শিরীষের ডালখানি নির্জীব অবেলায় চুপিসারে পড়েছিল নুয়ে, শঠতার সংকোচে জীবন কে দূরে ঠেলে সময়েরা গিয়েছিল বয়ে। মনে পড়ে গেল আজ বিস্মৃত যত কথা, ভুলে যাওয়া মান-অভিমান- দোলা দিয়ে গেল বুঝি নীরবে মনের মাঝে হাজার পাখির কুহুতান। সময়ের আহ্বানে পার হয়ে যাবে দিন অস্তাচলের পানে চেয়ে, দেখা হবে একদিন দূরে কোন মোহনায় নিভৃতে তরীখানি বেয়ে। খুব বেশি মনে পড়ে বসন্তে কোনদিন গ্রামের এক মেঠোপথ ধরে, পলাশ ফুলের মালা খোঁপায় জড়িয়ে নিয়ে- আলতো অলস পায়ে, যখন ফিরতে তুমি ঘরে। কখনও নদীর তীরে হারিয়েছি নির্জনে ঘুঘুডাকা দুপুরের ক্ষণে, নির্বাক তাকিয়েছি তোমার আয়ত চোখে, ভুলে গেছি আজ সব- কিছুই পড়েনা আর মনে। জীবনের আয়োজনে আমি আজ বহুদূরে, ভুলে গিয়ে যত ছিল কথা, অযাচিত ক্ষত হয়ে তবুও মনের মাঝে কেন জানি বারবার- ফিরে আসে অতীতের ব্যাথা। এখ...