"অন্য ভূবন"
"অন্য ভূবন”
প্রায় ত্রিশ দিন ঠিকমত ঘুমাইনি আমি,
অস্তিত্বের তীব্র এক সংকট তার শাখা-প্রশাখা বিস্তার করে আছে-
আমার সমগ্র স্বত্ত্বা জুড়ে।
এখন আমি একা, বড় বেশি রকমের একা, যদিও-
চিরন্তন দৃষ্টিতে প্রত্যেক মানুষই একা,
তবে আমি একা ভিন্ন অর্থে।
আমার জীবনের ফেলে আসা বত্রিশ বছরের স্মৃতি,
আমার ফ্ল্যাসব্যাকে চলে যাওয়া শৈশব, কৈশোর, যৌবনের এক-একটি দিন
এখন বড় বেশি অস্পষ্ট, বড় বেশি অচেনা…
ইদানীং খুব খুব ইচ্ছে করে- শৈশবের দিনগুলোতে ফিরে যেতে;
আমাদের সেই গ্রামের বাড়ি, বাড়ির সামনের সেই বড় বকুল গাছ..
খুব ইচ্ছে হয়- ছেলেবেলার মত মায়ের কোলে মাথা রেখে
একটু নিশ্চিন্তে ঘুমাতে, আমি ঠিক জানিনা-
মা এখন কোথায়? বেঁচে আছে, নাকি…
বুকের ব্যাথাটা আবার বেড়ে গেল।
জানিনা কেন, আজ অনেক দিন পর খুব তীব্র ভাবে-
তোমাকে মনে পড়ল।
একবার এক পৌষের মেলায় তুমি একটা শাড়ি চেয়েছিলে,
যা আজও দেওয়া হয়নি তোমায়;
হবেও না আর কখনও।
আচ্ছা, আমাকে কি এখনও তোমার মনে পড়ে?
নাকি, সবকিছু ভুলে গিয়ে সিমীত আটপৌরে স্বপ্নগুলোকে-
বেঁধে নিয়েছ, তোমার শাড়ির আঁচলে…
বেশ কিছুদিন থেকেই আমার মনটা খুব বেশি বিষন্ন,
আমার বিছানার পাশের জানালা দিয়ে আকাশ দেখা যায়না..
যখন সন্ধ্যা নামে, যখন ডানায় শেষ আলোর রং মেখে নিয়ে-
একটার পর একটা পাখি নীড়ের পানে ছুটে যায়…
আমার খুব ইচ্ছে করে, অনেক সময় ধরে-
তাদের ঘরে ফেরা দেখতে।
খুবই ইচ্ছে করে- শুধু একটা বারের জন্য খোলা আকাশের নীচে
দাঁড়িয়ে বুক ভরে নি:শ্বাস নিতে।
মাথার যন্ত্রনাটা আবার শুরু হয়েছে,
আমার খাটের লাগোয়া টেবিলে কিছু দুর্বোধ্য প্রেসক্রিবশন,
দু’দিন আগেও একজন ডাক্তার আসতো, ওষুধ পাল্টে দেবার জন্যে..
এখন আর আসেনা, কেউ আর আসেনা।
শুধু ঘুরে ফিরে আসে কিছু অস্থির চিন্তা।
এখন সন্ধ্যা নামছে চারিপাশে, গোধূলী আকাশের সবটুকু রং মুছে দিয়ে।
আমি বসে আছি ক্লান্তিকর ঘনীভূত আঁধারের জন্যে,
ভীষণ ইচ্ছে জাগে- এই চার দেওয়ালের আবদ্ধতা ভেঙ্গে
ছুটে পালিয়ে যাই দূরে, নির্জন কোন খোলা প্রান্তরে।
নির্মল আকাশের নীচে দাঁড়িয়ে বুক ভরে একবার নি:শ্বাস নিই..
কিন্তু পালাবার উপায় নেই, এখন শুধু অপেক্ষার পালা..
একটি বিশেষ দিন কিংবা বিশেষ কোন মুহূর্তের জন্য,
যখন আমি সত্যি সত্যি পালিয়ে যাব। এই ঘর ছেড়ে না,
এই জীবন ছেড়ে.. দূরে-বহুদূরে, অন্য কোথাও।
হয়তো অন্য কোন ভূবনে…-কৃষ্ণেন্দু দাস।
প্রায় ত্রিশ দিন ঠিকমত ঘুমাইনি আমি,
অস্তিত্বের তীব্র এক সংকট তার শাখা-প্রশাখা বিস্তার করে আছে-
আমার সমগ্র স্বত্ত্বা জুড়ে।
এখন আমি একা, বড় বেশি রকমের একা, যদিও-
চিরন্তন দৃষ্টিতে প্রত্যেক মানুষই একা,
তবে আমি একা ভিন্ন অর্থে।
আমার জীবনের ফেলে আসা বত্রিশ বছরের স্মৃতি,
আমার ফ্ল্যাসব্যাকে চলে যাওয়া শৈশব, কৈশোর, যৌবনের এক-একটি দিন
এখন বড় বেশি অস্পষ্ট, বড় বেশি অচেনা…
ইদানীং খুব খুব ইচ্ছে করে- শৈশবের দিনগুলোতে ফিরে যেতে;
আমাদের সেই গ্রামের বাড়ি, বাড়ির সামনের সেই বড় বকুল গাছ..
খুব ইচ্ছে হয়- ছেলেবেলার মত মায়ের কোলে মাথা রেখে
একটু নিশ্চিন্তে ঘুমাতে, আমি ঠিক জানিনা-
মা এখন কোথায়? বেঁচে আছে, নাকি…
বুকের ব্যাথাটা আবার বেড়ে গেল।
জানিনা কেন, আজ অনেক দিন পর খুব তীব্র ভাবে-
তোমাকে মনে পড়ল।
একবার এক পৌষের মেলায় তুমি একটা শাড়ি চেয়েছিলে,
যা আজও দেওয়া হয়নি তোমায়;
হবেও না আর কখনও।
আচ্ছা, আমাকে কি এখনও তোমার মনে পড়ে?
নাকি, সবকিছু ভুলে গিয়ে সিমীত আটপৌরে স্বপ্নগুলোকে-
বেঁধে নিয়েছ, তোমার শাড়ির আঁচলে…
বেশ কিছুদিন থেকেই আমার মনটা খুব বেশি বিষন্ন,
আমার বিছানার পাশের জানালা দিয়ে আকাশ দেখা যায়না..
যখন সন্ধ্যা নামে, যখন ডানায় শেষ আলোর রং মেখে নিয়ে-
একটার পর একটা পাখি নীড়ের পানে ছুটে যায়…
আমার খুব ইচ্ছে করে, অনেক সময় ধরে-
তাদের ঘরে ফেরা দেখতে।
খুবই ইচ্ছে করে- শুধু একটা বারের জন্য খোলা আকাশের নীচে
দাঁড়িয়ে বুক ভরে নি:শ্বাস নিতে।
মাথার যন্ত্রনাটা আবার শুরু হয়েছে,
আমার খাটের লাগোয়া টেবিলে কিছু দুর্বোধ্য প্রেসক্রিবশন,
দু’দিন আগেও একজন ডাক্তার আসতো, ওষুধ পাল্টে দেবার জন্যে..
এখন আর আসেনা, কেউ আর আসেনা।
শুধু ঘুরে ফিরে আসে কিছু অস্থির চিন্তা।
এখন সন্ধ্যা নামছে চারিপাশে, গোধূলী আকাশের সবটুকু রং মুছে দিয়ে।
আমি বসে আছি ক্লান্তিকর ঘনীভূত আঁধারের জন্যে,
ভীষণ ইচ্ছে জাগে- এই চার দেওয়ালের আবদ্ধতা ভেঙ্গে
ছুটে পালিয়ে যাই দূরে, নির্জন কোন খোলা প্রান্তরে।
নির্মল আকাশের নীচে দাঁড়িয়ে বুক ভরে একবার নি:শ্বাস নিই..
কিন্তু পালাবার উপায় নেই, এখন শুধু অপেক্ষার পালা..
একটি বিশেষ দিন কিংবা বিশেষ কোন মুহূর্তের জন্য,
যখন আমি সত্যি সত্যি পালিয়ে যাব। এই ঘর ছেড়ে না,
এই জীবন ছেড়ে.. দূরে-বহুদূরে, অন্য কোথাও।
হয়তো অন্য কোন ভূবনে…-কৃষ্ণেন্দু দাস।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন