"স্বপ্নময় শৈশব"

"স্বপ্নময় শৈশব"
স্টেশন থেকে পায়ে হাঁটা পথে আর দু'মাইল গেলেই আমার বাড়ি,
যেখানের আলো-হাওয়ায় লালিত আমার অদ্ভূত শৈশব।
আমার স্বপ্ন, কল্পনা, ভ্রম কিংবা অস্তিত্বের পুরোটা জুড়ে- সেই ঘর,
মেঠোপথ, জীর্ন পাঠশালা, অথবা চার রাস্তার মোড়ের বকুল গাছ...
আজও খুব শুনতে ইচ্ছে হয়- কুয়োতলায় জল নিতে আসা সেই কিশোরীর উল্লাস,
এখনও অনুভব করি- হাত ফসকে উড়ে যাওয়া লাটাই সমেত ঘুড়ির টান।
আটপৌরে জীবন আমাকে শিখিয়ে নিয়েছে তার পরতে পরতে
নতুন নতুন রং লেপে সাজিঁয়ে তুলতে,
বাস্তবতা আমায় কষাঘাত করেছে স্বপ্ন দেখার ধৃষ্টতায়।
আমি যে মানুষ, আমি রক্ত-মাংস দিয়ে তৈরি তীব্র অনুভূতির-
লোভ সর্বস্ব এক হোমোস্যাপিয়েন্স।
আমার আকাঙ্খা অসীম, চাহিদা অনির্দিষ্ট, আমি ছুটছি সামনে-
সাফল্যকে মুঠোবন্দী করার তীব্র প্রয়াস নিয়ে।
আমি পেছনে ফেলে এসেছি আমার ভালোলাগা শৈশব,
আমি ভুলে যেতে বসেছি আমার সেই সব পুরোনো দিন।
ইচ্ছে হলেই যেখানে ফেরা যায়না....
এখন আমার সংকীর্ণতার মাঝে স্বপ্ন হয়ে ফিরে ফিরে আসে-
সেই ঘর, হেমন্তের মিষ্টি আলোয় প্লাবিত সেই বকুল গাছ অথবা,
কিন্নর কন্ঠের হাজার সুর-লহরীর সেই কুয়োতলা।
ভীষণ ইচ্ছে হয় আবার ফিরে যেতে সেখানে,
কিন্তু কিভাবে ফিরব, আমি যে ভুলে গেছি সব...
শুধু এটুকুই ঘুরে ফিরে বার বার মনে পড়ে-
স্টেশন থেকে পায়ে হাঁটা পথে দু'মাইল গেলেই আমার বাড়ি,
যেখানে আমার ছোট্ট সংসার.....
-কৃষ্ণেন্দু দাস, বৈশাখ-১৪২০ বঙ্গাব্দ।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

সজ্ঞানে স্মৃতিভ্রংশ