"সমাপ্তি"

“সমাপ্তি”
এর আগে আর হয়তো এতটা তীব্রভাবে তোমাকে মনে পড়েছিল কি না, ঠিক জানা হয়ে ওঠেনি।
এবারের শীতেও খুব সম্ভবত আমার ফেরা হবেনা বাড়িতে,
জীবন তার ষোড়শ কলা পরিপূর্ণ করে নেবার এক অদ্ভূত কায়দায়
আমার সর্বাঙ্গ আজ জড়িয়ে নিয়েছে অক্টোপাসের আঙ্গুলে।
আর তাই হয়তো বা- তোমায় ভুলে থাকবার এতটা ধৃষ্টতা দেখাতে পারছি,
নয়তো, সেই কবে থেকে বাঁধা পড়ে আছি তোমার নীলচে আঁচলে……..
আমার গ্রামের মেঠোপথে কাঁধে খেজুর রসের বাঁক ঝুলিয়ে আজও কি
একটানা হেঁকে যায় সেই ফেরিওয়ালা? জানিনা আমি, হয়তো হবেও না জানা।
আজও উঠোনে ছড়িয়ে রাখা ধানের মাঝে ভুলক্রমে ঠোকর মেরে বসে কোন অবুঝ শালিখ,
আজও কি তুমি বিকেলের শেষ আলোর মাঝে রাজহংসী সেঁজে-
উত্তরের ফসলী মাঠের শেষ সীমানায় তাকিয়ে থাক,
যেখানে পেঁজা তুলোর মত-
মেঘেরা একটু একটু করে জড়ো হয় হেমন্তের বাতাসে,
কিংবা- মাঝ রাতে নীরব চাঁদ যখন একাকী এসে উঁকি দেয় তোমার জানালায়-
তখন হয়তো সমস্ত অভিমান ভুলে গিয়ে আবারো লিখতে বস আমাকে...
আমি জানি না, সত্যিই আমি জানিনা।
আমার অফুরন্ত ব্যস্ততা আজ তীব্র এক সোনালী অসুখ হয়ে ছড়িয়ে,
আমার সমস্ত কবিতার খাতার পৃষ্ঠাগুলো আজও থেকে যায় অসমাপ্ত-
তবে ঠিক জেনে নিও ফিরব আমি একদিন, সকল কাজের ইতি টেনে রেখে
দুরন্ত বালকের অবাধ্য খিপ্রতা নিয়ে, কোন এক অদেখা দিনের শেষে-
যখন আসবে সেই ক্ষণ, যখন আসবে সকল ব্যাস্ততার চীর সমাপ্তি।
-কৃষ্ণেন্দু দাস (বাপ্পী),
অক্টোবর-২০১৬।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

সজ্ঞানে স্মৃতিভ্রংশ