"আর এক হেমন্তে"

"আর এক হেমন্তে"
হেমন্তের ত্রয়োদশী'র বিষণ্ণ এক সন্ধ্যা, বাতাসে মৃদু হিমেল স্পর্শ আজ খুব বেশি করে- মনে করিয়ে দিচ্ছে অনেক ফেলে আসা দিনের কথা।
ভাবতে গেলে মনেহয় যেন-
এই তো, মাত্র সেদিন।
অথচ কিভাবে কিভাবে জানি কেটে গেছে তেত্রিশ’ টি বছর।
আলো ঝলমলে, হাওয়ায় মাতানো কিংবা ঘন অমাবস্যায় স্যাঁতস্যাঁতে কোন বিবর্ণ অনুভূতির ঘেরাটোপে অস্তিত্বের সাথে চীর সংঘর্ষে কাটানো আমার নিবিড় সময়গুলো।
মনেপড়ে অনেক ছেলেমানুষি করে নিজের চারিপাশে রহস্যের জাল বিস্তার করে সবাইকে ঘাবড়ে দেবার সেই অনিমিষ প্রচেষ্টার কথা।
আর আজকের এই আমি?
নিজেকে কোথায় যেন হারিয়ে ফেলে আজ অন্ধকারে হাতড়ে খুঁজে ফিরছি সবটা আবার নতুন করে শুরু করব বলে। নতুন উচ্ছাসে আবারো ফিরে যাব সেই সব দিনের আনন্দ-বেদনার চিলেকোঠায়।
হাত-পা ছড়িয়ে দিয়ে আবার ভেসে যাব ভৈরবের নতুন জোয়ারের টানে। তোমার অপেক্ষায় আবার অধীর হব স্টেশনের সেই মেঠোপথে,
রৌদ্রের শেষ আলোক রশ্নিকে যখন আস্তে আস্তে শুষে নেবে সন্ধ্যার আকাশ- যখন কুয়াশার তীব্রতা ভুলে গাঁয়ের মানুষ হাজির হবে চা খেতে বটতলার মোড়ে....
কুপির টিমটিমে আলোয় আমিও হয়তো হাজির হব, কিংবা এই হাজার নক্ষত্রের রাতের মত তাকিয়ে থাকব দূরের পানে। এভাবেই কাটবে শত-সহস্র অলিখিত রাত্রি দিন,
চেতনার বলয়ে আচ্ছন্নতার আবেশে লিখে যাব আমারই আনন্দ-বেদনার মহাকাব্য,
হয়তো অন্য কোন দিনের শেষে-
অন্য এক হেমন্তের ত্রয়োদশী তিথী’র বিষণ্ণ কোন সন্ধ্যায়..........
কৃষ্ণেন্দু দাস / নভেম্বর, ১৬।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

সজ্ঞানে স্মৃতিভ্রংশ