নিভৃতে মৃত্যু

"নিভৃতে মৃত্যু"
সূর্যোদয়ের তখনও ঢের দেরি,
রাত্রির আঁধার হিংস্র শ্বাপদের মত আঁকড়ে ধরে তার পা দুটো।
বুড়ো আঙ্গুল থেকে তখনও থামেনি রক্তপাত; এন্ড্রোলিনের ক্ষরণ আর ধুক-ধুক করে চলমান হৃদপিন্ড প্রতি মূহুর্তে তাকে তাগাদা দেয় মৃত্যুর। তবুও স্বত্ত্বার মাঝে জোরালো হয়ে বাজে হাজার কন্ঠের চিৎকার...
না, মরবেনা সে কিছুতেই।।
সে আবারো পা চালায় সামনে, পেছনেই বন্য কুকুরের খিপ্রতায় ছুটে আসছে শত্রু। তাকে পালাতে হবে রাত পোহাবার আগেই।
হঠাৎ করেই তার কাছে তখন সবকিছু অর্থহীন মনেহয়, খুব করে মনেপড়ে অনেক দিন আগে দেখা মায়ের মুখটা। মনেপড়ে উঠোনের নরম রোদে বেড়ে ওঠা বরই গাছ, সেখানে পাখির কলরব...
তার আবার ইচ্ছে হয় বাঁচতে;
প্রচন্ড লোভ হয় ফেলে আসা সেই ক্ষুদ্রতায় মোড়া জীবনের প্রতি।।
হঠাৎ কোন রাতজাগা পাখির কর্কশ আওয়াজ সচকিত করে তাকে,
দু'চোখ কচলে বহুকষ্টে আবার পোড় খাওয়া আহত শরীরটাকে একটু একটু করে টেনে নিয়ে চলে সামনে।
তার গলা শুকিয়ে হয় কাঠ; চোখে ঘনিয়ে আনে নীরব রাতের আঁধার, লুটিয়ে পড়ে সে মাটিতে।।
সূর্যোদয়ের আর সামান্য দেরি;
সামনে অপেক্ষমান নতুন দিন আর অঢেল সময়, কিন্তু সেই সময় অব্দি জেগে থাকার সময় ততক্ষণে হারিয়েছে সে।।
-কৃষ্ণেন্দু দাস//১২ জুলাই, ২০১৭।।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

সজ্ঞানে স্মৃতিভ্রংশ